অন্তর্বর্তী সরকারকে মোকাবিলা করবে জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবার -রংপুরে সারজিস

রংপুর প্রতিনিধি:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এবং জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার বিচার না করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি দায়সারা নির্বাচন করতে চায়,তাহলে তাদের সবার আগে জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবার গুলোর মুখোমুখি হতে হবে। এতে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন হবে না। অভ্যুত্থানে  ছাত্র-জনতা যেভাবে রাজনৈতিক দল ছাড়াই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মোকাবিলা করবে জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারগুলো। 

রাজনৈতিক দলগুলোর দায়সারা স্বাক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এই কথাগুলো বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর নগরীর হোটেল তিলোত্তমায় এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভা এবং এনসিপি রংপুর জেলার সদস্য সচিব প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সকল রাজনৈতিক দল জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি চায় উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন,  এনসিপিও এর আইনগত ভিত্তি চায়। বিএনপিসহ কয়েকটি দলের কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও সবাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু এই স্বাক্ষর দায়সারা বলে মনে করেন তিনি।

সারজিস আলম আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিরিজ আকারে ঘটতে থাকা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো চক্রান্তের অংশ। এসব স্থানে অগ্নিকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। ফ্যাসিস্টদের অডিও-ভিডিও নির্দেশনায় এগুলো ঘটছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর তদারকি করতে হবে এবং দমনে উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আগামী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষ আস্থা পাবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নামে বা নৌকা মার্কায় কোনো রাজনীতি এ দেশে আর থাকবে না।

এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা আরও জানান, আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, “শাপলা প্রতীক” দিতে  নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত বাধা নেই। তবুও টালবাহানা করা হচ্ছে।এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এই প্রতীক নিয়েই অনড় অবস্থানে আছে। না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে।

রাজনীতির অস্তিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দল এনসিপি। মানুষ জুলাই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপিকে দেখেছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয়, নেতৃবৃন্দসহ রংপুর জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *