সাদাপাথর লুটকাণ্ডে সাহাব উদ্দিনের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

সিলেট  প্রতিনিধি:

 ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের অমলিন শোভা যখন লুটের আঁধারে আচ্ছন্ন, তখন সেই অন্ধকারের নেপথ্যের ‘মূলহোতা’ হিসেবে চিহ্নিত হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্থগিত হওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজি সাহাব উদ্দিন। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের পরিদর্শক (কোর্ট) মো. জামশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭ এর বিচারক ধ্রুব জ্যোতি পাল শুনানি ছাড়াই তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ড শুনানির দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি বলে জানান তিনি।

গত শনিবার রাতের অন্ধকারে র‌্যাব-৯ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সাহাব উদ্দিনকে। খনি ও খনিজসম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে আটক করা হয় এবং রাতেই কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাব-৯ এর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের বুকে অবৈধভাবে উত্তোলিত হয়েছে বিপুল পরিমাণ সাদা পাথর—যা সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে আলোড়ন ও সমালোচনা। সেই অভিযানের পথ ধরে ধরা পড়েন সাহাব উদ্দিন।

সাদাপাথর লুটকাণ্ডে সাহাব উদ্দিনের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন
সাদাপাথর লুটকাণ্ডে সাহাব উদ্দিনের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

দীর্ঘদিন পাথর ব্যবসায় যুক্ত এই নেতা ভোলাগঞ্জ পাথর আমদানিকারক সংগঠনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার ছায়াতলে সক্রিয় হয়ে ওঠে এক প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে সরকারি জমি দখল, পাথরমহাল ভাড়া, এমনকি ৫ আগস্ট ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের পাশের রিসোর্ট ও রোপওয়ে বাঙ্কারে হামলার মতো ঘটনাও সংঘটিত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সেই হামলার রেশ ধরে তার অনুসারীরা সাদাপাথর এলাকায় প্রকাশ্যে দখল ও লুটপাট চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে শুধু লুট নয়, রয়েছে সাতটি মামলার বোঝা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ১১ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে তার সব পদ স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাকে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোলাগঞ্জ—যেখানে সাদা পাথরের নীরব সৌন্দর্য ভ্রমণপিয়াসীদের টেনে আনে, গত এক বছরে সেই স্থানেই অনিয়ন্ত্রিত লুটপাটে প্রকৃতি হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত। পরিবেশের বুকফাটা আর্তি স্থান পেয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের পাতায়। আর সেই কণ্ঠস্বরই বাধ্য করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযানের পথে নামতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *