চাকরি হারিয়ে সংকটে ৫,৫০০ ব্যাংক কর্মকর্তা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেন সাতকানিয়ার চাকরিচ্যুতরা

মোরশেদুল আলম (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া–লোহাগড়া এলাকার প্রায় ৩০০ জন চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেরানীহাট চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তারা অংশ নেন। কোনো পূর্বশর্ত, নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই হঠাৎ করে তাদের চাকরিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।


মানববন্ধনকারীরা বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিনা নোটিশে আমাদের চাকরি বাতিল করা হয়। ঘটনাটি যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। পরিবারে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, সামাজিকভাবে আমরা অপমানিত হচ্ছি। বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চাকরি পেলেও আমাদের ‘এস আলম’ ও ‘চট্টগ্রাম ট্যাগ’ দিয়ে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”


তাদের অভিযোগ—হঠাৎ চাকরি হারানোর ফলে অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়সও শেষ হয়ে গেছে। ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা গত অক্টোবরে দেশজুড়ে চাকরিচ্যুত হওয়া মোট ৫,৫০০ ব্যাংক কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের দাবি জানান। এ বিষয়ে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

চাকরি হারিয়ে সংকটে ৫,৫০০ ব্যাংক কর্মকর্তা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেন সাতকানিয়ার চাকরিচ্যুতরা
চাকরি হারিয়ে সংকটে ৫,৫০০ ব্যাংক কর্মকর্তা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেন সাতকানিয়ার চাকরিচ্যুতরা


মানববন্ধনকারীদের অনেকেই জানান, চাকরি হারানোর ফলে তাদের পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আরেকজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা বলেন, “বছরের পর বছর পরিশ্রম করে নিজের পরিচয় গড়েছি। এখন হঠাৎ চাকরি নেই—এ অবস্থায় সমাজে মুখ দেখানো কঠিন হয়ে গেছে।
আরেকজন বলেন, “চাকরি হারানোর পর বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই, অন্য কিছু নয়।”


চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের একটাই দাবি—স্বচ্ছ তদন্ত ও মানবিক বিবেচনায় দ্রুত পুনর্বহাল। তাদের ভাষায়, “আমরা অপরাধী নই, বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি স্বীকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা। আমাদের জীবন-জীবিকা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।” ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *