জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরে জোর পূর্বক ভাবে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের দায়ে আসামী চঞ্চল (৪০)নামের এক যুবকের ৯(১) ধারায় যাবতজ্জীবন ও ১লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ৭ ধারায় ১৪ বছরেরে কারাদন্ড ও ২০হাজার টাকা জরিমানার আদেশের রায় ঘোষণা দিয়েছে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২ টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম সাহেব এ রায় ঘোষনা করেন। আসামি চঞ্চল জামালপুর জেলার পৌরসভা পশ্চিম ফুলবাড়ীয়া দুলাল উদ্দিন এর ছেলে । রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের অনুপস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট পক্ষে এডভোকেট ফজলুল হক ও বিবাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন এডভােকেট মোতাকাব্বির হোসেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত এর পিপি আইনজীবী ফজলুল হক জানান,মামলার বাদী হারুন অর রশিদ এর কন্যা রশিদা আক্তার (হ্যাপি) কে বিবাদী চঞ্চল জোর পূর্বক ভাবে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। বাদী বিবাদীদ্বয়ের বাড়ী পাশাপাশি এবং তারা প্রতিবেশী । বিবাদী চঞ্চল বখাটে প্রকৃতির ছেলে। বিবাদী চঞ্চল রশিদা আক্তার (হ্যাপি)কে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে নানা ভাবে উত্যাক্ত করিয়া আসিতে থাকে। পরে রাজি না হইলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই ঘটকের মাধ্যমে,তবুও রাজি না হইলে ঘটনার দিন স্কুলে ২য় সাময়িক পরীক্ষা অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বাাড়ী থেকে বাহির হইয়া যাওয়া মাত্রই জামালপুর পৌরসভাধীন বােসপাড়া সাকিনে পৌরসভার পানির ট্যাংকির পূর্ব পার্শ্বে হোসেন মন্জিলের সম্মুখে রাস্তায় সকাল ৯ টার সময় পৌছা মাত্রই পূর্ব থেকে সেখানে অপেক্ষামান আসামী চঞ্চল ও তাহার অপরিচিত ৩ বন্ধুসহ পথ রোধ করে দাড়ায়।
তখন রশিদা আক্তার (হ্যাপি) কোন কিছু বুঝিয়া উঠার আগেই তাহাকে টান মারিয়া জোর পূর্বক তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাহাকে একটি সি.এন.জি অটো রিক্সায় তুলিয়া ফেলে এবং তাহাকে অপহরণ করতঃ চঞ্চল ও তাহার ৩ বন্ধু সি.এন.জি যোগে দক্ষিন দিকে লইয়া চলিয়া যায়। পরে বাদী হারুন অর রশিদ সংবাদ পাইয়া দ্রুত ঘটনা স্থলে আসেএবং কতিপয় সাক্ষীদের ও পথচারীদের নিকট ঘটনার বিস্তরিত শুনে। অদ্যাবধি রশিদা আক্তার (হ্যাপি) কোন সন্ধান পাই নাই। বাদীর দৃঢ় বিশ্বাস অপর আসামীদের সহযোগিতায় আসামী চঞ্চল অপহরণ করিয়া দূরে কোথাও আটক রাখিয়াছে এবং রশিদা আক্তার (হ্যাপি)কে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করিয়াছে।
রশিদা আক্তার (হ্যাপি) বাবা হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর৭/৯(১)/৩০ ধারায় ২০১০ সালের ৩০ আগষ্ট জামালপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে ৬ জন স্বাক্ষী আদালতে জবাব বন্দী প্রদান করে । আসামীর আইনজীবী ও জেরা করেন। আসামী চঞ্চল জোর পূর্বক ভাবে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের দায়ে ৯(১)৭ ধারায় ও দোষী প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর যুবকের ৯(১) ধারায় যাবতজ্জীবন ও ১লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ৭ ধারায় ১৪ বছরেরে কারাদন্ড ও ২০হাজার টাকা জরিমানার আদেশের রায় ঘোষণা হয়। যাহা বাদী পক্ষ পাবে।