ঢাকা প্রতিনিধি:
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, কমিশনের কাজ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে আলোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ২৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ কথা বলেন।
‘শুধু সুপারিশ করতে পারি, চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই’
আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষমতা কমিশনের নেই। আমরা শুধু আলোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে পারি। কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কমিশন করবে না।”
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। সেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছিল। সেই খসড়ার ওপর মতামত পাওয়া গেছে। অঙ্গীকারনামা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত খসড়াটি আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে দলগুলোর হাতে পৌঁছে যাবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞ প্যানেলে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তিনজন আইনজীবী এবং একজন আইনের শিক্ষক ছিলেন। তাদের বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে আমরা বুঝতে পেরেছি, জুলাই সনদের কিছু বিষয় অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে।”
কমিশন নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিতে চাই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।”
ঐকমত্য কমিশনের এই অবস্থান থেকে পরিষ্কার হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কমিশন চাপিয়ে দেওয়া বা কর্তৃত্ব দেখাতে চাইছে না। বরং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পথনকশা সরকারের কাছে পেশ করতেই তারা মনোযোগী।