সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
মা মাছের অভয়ারণ্য খ্যাত মিঠাপানির মাছের প্রজনন কেন্দ্র দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢলের পানি প্রবেশ করলেও মাছ না থাকায়,মাছ ধরতে পুর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জেলেদের সকল আয়োজন বৃথায়।
শনিবার (২৭এপ্রিল)সকালে পাটলাই নদীতে ঢলের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় পানির চাপে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রবেশ পথ নজরখালী বাঁধ ভেঙে হু হু করে হাওরে পানি প্রবেশ করার সাথে সাথেই স্রোতের বিপরীত দিকে আসা মাছ ধরতে,মাছ ধরার সরঞ্জাম চায়না দোয়ারি জাল,কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন প্রকার জাল নিয়ে মাছ ধরতে স্থানীয় ভাষায় (উইজ্যা)ধরতে ঝাপিয়ে পড়ে স্থানীয় জেলেরা।কিন্তু এইবার হাওরে মাছ থাকায় জেলেদের সকল প্রকার আয়োজন বৃথায় চলে গেছে।তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাছ ধরতে না পাড়ায় মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
গতকাল সরেজমিন টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখাযায় হাওরের চটানিয়া লেছুয়ামারা,রৌহা বিলে মাছ ধরার সরঞ্জাম চায়না দোয়ারি জাল পেতে বসে আছে স্রোতের বিপরীতে আসা মা মাছ ধরতে কিন্তু সারারাত জাল পেতে রেখেও মাছ না পেয়ে অনেকেই হতাশা হয়ে জাল নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে দেখাযায়। কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পুর গ্রামের এক জেলের সাথে উনি বলেন উইজ্যা ধরতে(মাছ ধরতে)আমি ৪০হাজার টাকার জাল কিনেছিলাম কিন্তু এইবার হাওরে মাছ না থাকায় সারারাত জাল পেতে মাছ পাইনি,তাই জালগুলো নষ্ট না করে জাল নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি।
একই এলাকার ইন্দ্রপুর গ্রামের হেমেন্দ্র নামের এক জেলে জানান এই বছর হাওরে যেভাবে ইলেক্ট্রিক শক মেশিন ও বিষপ্রয়োগে মাছ ধরা হয়েছে মাছ থাকবে দূরের কথা হাওরের পানিটাও দুষিত হয়ে গেছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্মানিত সদস্য অখিল তালুকদার জানান হাওরের উৎপাদন বাড়াতে হলে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইলেক্ট্রিক শক মেশিন, বিষপ্রয়োগ ও চায়না দোয়ারি জাল সহ সকল প্রকার নিষিদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ করতে হবে।