আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট:
লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নামক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে আয়োজিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৪২৫ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পার্লামেন্ট স্কয়ারে এই বিক্ষোভে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। তারা হাতে নানা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন, যেখানে গাজার গণহত্যা বন্ধের দাবি এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থনের বার্তা লেখা ছিল।
বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার গত জুলাই মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রাখা বা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো এখন আইনত অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ১৪ বছরের কারাদণ্ড।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, আটককৃতদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আটক হন।
অন্যদিকে, র্যালির আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস অভিযোগ করেছে, পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর অকারণ সহিংসতা চালিয়েছে। এমনকি বৃদ্ধদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়—একজন পুলিশ কর্মকর্তা এক বৃদ্ধ প্রতিবাদকারীকে মাটিতে ঠেলে ফেলছেন।
পুলিশ ধাপে ধাপে ভিড়ের ভেতর থেকে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গ্রেপ্তারের সময় বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাদের “লজ্জিত হওয়া উচিত” বলে কটাক্ষ করা হয়।
এক বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন—“আমাদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং বোকামি।” অন্যরা বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা একটি গণহত্যা এবং এতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তারা চান, সরকার যেন আন্তর্জাতিক মানবিকতার দায়িত্বশীল আচরণ করে।
পুলিশ যখন পার্লামেন্ট স্কয়ার থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে “গণহত্যাকে সমর্থন করার” অভিযোগ তুলে স্লোগান দিলে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নেয়।