ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর মিডফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়মের চিত্র একের পর এক সামনে আসছে। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করানো এবং বেড বাণিজ্যের অভিযোগ। এবার নতুন করে উঠে এসেছে গুরুতর আরেকটি অভিযোগ—রোগী পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র (রিলিজ) দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে এবং বাইরের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বেড খালি করার অজুহাতে অর্ধসুস্থ রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, ফলে তারা বাধ্য হচ্ছেন ব্যয়বহুল প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে।

একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ভাই তখনও গুরুতর অবস্থায় ছিল, তবুও হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দিল। পরে দ্বিগুণ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।”
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, বেড সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীদের দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে স্বজনদের দাবি, এর পেছনে মূলত কমিশনভিত্তিক দালালচক্র কাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসার নামে এই অনিয়ম শুধু রোগীদের জীবন ঝুঁকিতেই ফেলছে না, বরং সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনগণের প্রশ্ন—কখন বন্ধ হবে মিডফোর্ড মেডিকেলের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব?