দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে পুরুষ চিকিৎসকের আধিক্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী রোগীর স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রসূতি সেবা ও গোপনীয়তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা রোগীদের জন্য মানসিক অস্বস্তি তৈরি করছে।
অনেক স্বজনের প্রশ্ন—নারী চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও কেন পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে সিজার বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়া হচ্ছে? কেউ কেউ মনে করছেন, এটি শুধুই জনবল সংকট নয়; বরং হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে যিনি দায়িত্বে থাকেন, তাঁকেই কাজে নামতে হয়। প্রশিক্ষিত নারী চিকিৎসকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সিজার কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রাফির সময় পুরুষ চিকিৎসকের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোগীর মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে নারী চিকিৎসক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি। তাঁদের মতে, গাইনোকোলজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো বিভাগে নারী চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা থাকা উচিত এবং রোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় নীতিমালায় অন্তত একজন নারী স্টাফের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা দরকার।
তাঁদের সতর্কবার্তা—সমস্যার সমাধান না হলে রোগীদের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসা সেবায় রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা না করলে তা শুধু সামাজিক অস্বস্তিই নয়, আস্থার সংকটও তৈরি করবে।