হিজলা (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের হিজলায় হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, হিজলা উপজেলা শাখা ও ফয়সাল মাহমুদ ফাউন্ডেশন-এর যৌথ আয়োজনে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ৯টায় কাসেমুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসার মাঠ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ আহমাদুল্লাহ, সভাপতি, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন হিজলা উপজেলা। তিনি বলেন, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন সবসময় কুরআনভিত্তিক শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের নৈতিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব প্রকৌশলী ফয়সাল মাহমুদ তালুকদার, প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল মাহমুদ ফাউন্ডেশন হিজলা বরিশাল। তিনি বলেন,যে সমাজে কুরআনের হাফেজ তৈরি হয়, সে সমাজ কখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে না। কুরআনের আলোয় আলোকিত প্রজন্মই পারে নৈতিক ও আদর্শিক সমাজ গড়ে তুলতে।
প্রধান আলোচক ছিলেন উস্তাজুল আসাতিজা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুর রহিম (দা.বা.) শায়েখ কাসেমুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা। তিনি বলেন, হিফজুল কুরআন শুধু মুখস্থ করা নয়, বরং তা হৃদয়ে ধারণ করে জীবনে বাস্তবায়ন করাই আসল উদ্দেশ্য।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল মান্নান ঢালী (দা.বা.) এবং আলহাজ্ব এ. কে. এম মাসুমুর রহমান সিকদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাসেমুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন হিজলা উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা সালাহউদ্দিন খান। তিনি বলেন, কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় না হলে কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না। এ ধরনের আয়োজন আমাদের শিশু-কিশোরদের কুরআনের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন হিজলা উপজেলা। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হাফেজদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কুরআনী-নুর ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সানাউল্লাহ আস সুদাইস বলেন, হিজলায় এমন একটি কুরআনভিত্তিক আয়োজন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা চাই এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক এবং প্রতিটি গ্রামে কুরআনের চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক। কুরআনের হাফেজরাই আমাদের জাতির নৈতিক দিশারী।