তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে এক অবিস্মরণীয় ও আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো এসএসসি ১৯৯৬ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিব নদীর বাঁধে “বন্ধুত্বের টানে, ভালোবাসার বাঁধনে” শিরোনামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসে একত্রিত হন সেই সময়ের সহপাঠীরা। স্মৃতিময় এই দিনে সবার মিলিত উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় এক প্রাণবন্ত পিকনিকের। মো: আজাদ ও মো: কামালের উদ্যোগে মিলনমেলার সূচনা হয়। সকালে সবাই একে একে মিলিত হলে শুরু হয় আবেগঘন শুভেচ্ছা বিনিময়। অনেকেই দীর্ঘদিন পর একে অপরকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ের পুরনো দিনের স্মৃতি, পড়ালেখার নানা অভিজ্ঞতা, ক্রীড়া-সংস্কৃতির মুহূর্ত এবং একসাথে কাটানো শৈশবের দিনগুলো যেন নতুন করে ফিরে আসে।
বন্ধুদের তালিকায় ছিলেন—মো: আজাদ, কামাল, হামিদুর, জাহাঙ্গীর, নাজিম, মাহাবুর, শাফিন, মশিউর, নান্টু, শামীম, প্রতাপ, দীপেন, মাসুদ, পরিতোষ, শহিদুল, বেবি, আইয়ুব, মোস্তফা ও নার্গিস। সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে এখন প্রতিষ্ঠিত জীবনে পা রেখেছেন। কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউবা শিক্ষাবিদ কিংবা বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু পেশাগত পরিচয়কে ছাপিয়ে তারা সবাই এক কাতারে এসেছিলেন শৈশবের বন্ধুত্বকে ঘিরে।
দিনব্যাপী পিকনিকে ছিল নানান আয়োজন। গান, আড্ডা, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা আর একসাথে মধ্যাহ্নভোজ—সবকিছুই যেন প্রাণের বন্ধনে মিশে যায়। সুস্বাদু খাবার উপভোগ শেষে সবাই ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে পুনর্মিলনীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা পর্বে উপস্থিত বন্ধুরা বলেন—“আজকের এই দিনটি আমাদের জীবনের স্মৃতিপটে চির অম্লান হয়ে থাকবে। দীর্ঘ সময় পর একে অপরকে কাছে পেয়ে আমরা নিজেদের শৈশবে ফিরে গিয়েছি। এমন আয়োজন আগামী দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে হওয়া প্রয়োজন।”
এছাড়া সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের জন্য সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
মিলনমেলার শেষ মুহূর্তে বন্ধুরা আবারও প্রতিশ্রুতি দেন—শুধু পেশাগত নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও তারা একে অপরের পাশে থাকবেন। এই পুনর্মিলনী ছিল শুধু একটি পিকনিক নয়, বরং ২৯ বছরের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলার অঙ্গীকার।