বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে হতে পারে ছয় চুক্তি ও সমঝোতা

মোঃ শাহজাহান বাশার ঢাকা প্রতিবেদক:

বাংলাদেশপাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন পর উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বৈঠককে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে দুদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

শনিবার সকালে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের মাধ্যমে সফরসূচি শুরু করেন ইসহাক দার। সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের একান্ত বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হবে আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইসহাক দার।

বৈঠক শেষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে সরকার। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তিনি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ইসহাক দার সফরকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায়ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রবিবার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নিম্নলিখিত ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হতে পারে—

১. কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি চুক্তি

২. বাংলাদেশপাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা

৩. দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা চুক্তি

৪. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ গ্রুপ গঠন

৫. বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) ও পাকিস্তানের সমমনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি

৬. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক

এ ছাড়া মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে দুদেশের রাজনৈতিক সহযোগিতা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা খাত, জঙ্গিবাদ দমন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও সার্ককে সক্রিয় করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ বৈঠকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিপূরণ, বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা এবং ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়ও উত্থাপন করবে।

ইসহাক দার শনিবার ঢাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তান থেকে ঢাকায় সফরে আসা তিনি তৃতীয় মন্ত্রী। গত জুলাইয়ে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত বুধবার এসেছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান।

ঢাকায় আসার পর পাকিস্তানের হাইকমিশনের আয়োজনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইসহাক দার। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *