জাবি জাকসু নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ

ঢাকা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও প্রতিদিনই বাড়ছে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ।

আচরণবিধির ৭ (গ) ধারায় বহিরাগতদের প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও প্রার্থীরা সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকান, ক্যাফেটেরিয়া, রিকশা, এমনকি আবাসিক হলের প্রহরীর টেবিলেও পোস্টার ও লিফলেট সাঁটানো হয়েছে।

 নির্ধারিত মাপ অমান্য করে বড় আকারের পোস্টার ব্যবহার, অন্য প্রার্থীর পোস্টারের ওপর নিজের পোস্টার লাগানো এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ব্যাপকভাবে ঘটছে। অথচ আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—দেয়াল পোস্টারিং, বিদ্যুতের খুঁটি বা গাছে পোস্টার লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া ব্যয়ের সীমা অমান্যের অভিযোগও উঠেছে। আচরণবিধি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা এবং হল সংসদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা খরচ করতে পারবেন। কিন্তু অভিযোগ আছে, কিছু প্রার্থী ১০-২০ হাজার লিফলেট ছাপিয়েছেন, যার ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সমর্থকদের খাবার ও চা-নাশতায় খরচ হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা।

এরইমধ্যে গতকাল শনিবার ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ প্রচারণার ১০ম দিনে ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি।

অপরদিকে নিয়মিত ছাত্রত্ব না থাকায় ভিপি পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি ছিলেন ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের (একাংশ) সাবেক সভাপতি।

 শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী অমর্ত্য রায় জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারা অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তাঁর নাম প্রার্থী ও ভোটার তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *