প্রতিবেদক মোঃ শাহজাহান বাশার :
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ১৪ মাসে ১৩ বার বিদেশ সফর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তিনি নন, সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টারাও নিয়মিত বিদেশ সফরে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে এমনও দেখা গেছে, কিছু ‘গুরুত্বহীন’ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানেও উপদেষ্টাদের উপস্থিতি ঘটেছে, যা নিয়ে জনমহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এ সফরে তার সঙ্গে ছিলেন সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও।
সরকারি একটি নথি অনুযায়ী, এ সফরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর তালিকায় নাম ছিল অন্তত একশজনের। তবে এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত সপ্তাহে তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন— সফরসঙ্গীর সংখ্যা ছিল ৬২ জন।
তবে সংখ্যাগত পার্থক্য নিয়েও সমালোচনা থেমে নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও কেন এত বড় বহর নিয়ে বিদেশ সফর প্রয়োজন হলো? সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে দিশেহারা, তখন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এ ধরনের বিলাসী বহর রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে ঘনঘন বিদেশ সফর, অন্যদিকে বড় বহর— দুটিই সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অনেকে আরও বলছেন, সরকারের উপদেষ্টারা যে সব সম্মেলন বা অনুষ্ঠান অংশ নিচ্ছেন, তার বেশিরভাগই রাষ্ট্রীয় স্বার্থের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— প্রধান উপদেষ্টার এসব সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে সহায়তা করছে। বিদেশ সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এসব সফরের মাধ্যমে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় থামছে না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করবে সরকার।