গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ চক্রের লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করা এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেওয়া। একই সঙ্গে আরেকটি দল নানা ছক-চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খুঁজছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলার ফাজিলপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের কবর জিয়ারত শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি জনসভায় যোগ দিতে রওনা হন। মির্জা ফখরুল বলেন,
“একটি দল বিএনপির মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়। তারা মনে করছে, বিভক্ত করে বিএনপিকে দুর্বল করা গেলে তারাই লাভবান হবে। আরেকটি দল নানা কৌশলে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু আমরা অতীত থেকেই জানি—এদের কারও মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“এদের দ্বারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। সেই কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে, আর দলকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

গোদাগাড়ীর ফাজিলপুরে প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের কবর জিয়ারতের সময় মির্জা ফখরুল বলেন,
“আমিনুল হক ছিলেন একপ্রকার প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্র, অধিকার এবং মানুষকে ভালোবাসার রাজনীতি কী—তিনি তা আমাদের শিখিয়েছেন। তাঁর মতো নিবেদিত রাজনীতিবিদ আজকের বাংলাদেশে খুব কমই আছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মতো নেতৃত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। বিএনপির মহাসচিব বলেন,“জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে।
মানুষ আজও বিএনপিকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র শক্তি মনে করে। কিন্তু কিছু অপশক্তি বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন,
“এখন আর পিছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমাদের সামনে লক্ষ্য—দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা অটুট রাখা সবচেয়ে জরুরি।
কবর জিয়ারত ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে মির্জা ফখরুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানান, বর্তমান সরকারের বিরোধিতা ও আন্দোলনকে বেগবান করতে মহাসচিবের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।