কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই উত্তাপের মাঝেই আলোচনায় এসেছেন তরুণ শিক্ষিত নারী প্রার্থী জেসিনা মুর্শীদ প্রাপ্তি। তিনি গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কেশবপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
জেসিনা মুর্শীদ প্রাপ্তির রাজনৈতিক যাত্রা খুব বেশি দিনের না হলেও তাঁর পারিবারিক পটভূমি, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত পরিচিতি তাঁকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। প্রাপ্তি মূলত যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি যশোর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পান।
শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবারও রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে সুপরিচিত। প্রাপ্তির পিতা কাজী মসরুর মুর্শীদ পেশায় একজন আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত। তাঁর নানা শহীদ সাংবাদিক গোলাম মাজেদ ছিলেন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের প্রথিতযশা সংবাদপত্র দৈনিক রানার ও গণমানুষ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারটির এই ইতিহাস প্রাপ্তির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানা যায়।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর প্রাপ্তি বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কেশবপুরের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতেই আমি এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গণঅধিকার পরিষদ সবসময় জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তাহলে আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঐতিহ্যগতভাবে যশোর-৬ আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখানে বেশ চোখে পড়ার মতো। নতুন মুখ হিসেবে প্রাপ্তির মনোনয়ন সংগ্রহ সেই ধারারই একটি স্পষ্ট প্রকাশ। তাঁর প্রার্থিতা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং নতুন ধরনের রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, তাঁরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। দলীয় সূত্র দাবি করছে, আগামী নির্বাচনে তারা কেশবপুরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে চায়। প্রাপ্তির মতো নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব তাদের সংগঠনে প্রাণশক্তি যোগ করবে।
প্রাপ্তির মনোনয়ন সংগ্রহের খবর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তরুণদের বড় একটি অংশ তাঁকে স্বাগত জানিয়ে নানা শুভেচ্ছা জানায়। অনেকেই মনে করছেন, প্রচলিত রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় প্রাপ্তির নেতৃত্বের ধরন ভিন্ন এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেশবপুরের রাজনৈতিক মাঠ এখনো পুরোপুরি জমে না উঠলেও নতুন মুখের আগমন ভোটযুদ্ধকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়—মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, প্রচার ও চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে প্রাপ্তি কতটা শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেন। নির্বাচনী মাঠে তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।