চেয়ারম্যান অনুপস্থিত, বাকশীমূল ইউপিতে স্থবির জনসেবা, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মোঃ শাহরিয়া বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

‎কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ২নং বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদে জনসেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

‎ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, ভূমি সংক্রান্ত প্রত্যয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে। পরিষদে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন সাধারণ মানুষ।

‎ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা জানান, পরিষদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও নির্দেশনা ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সদস্য ও কর্মকর্তারাও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

‎ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জানান, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ বা প্রশাসনিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমতে পারত।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবদুল করিমের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য এসব অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সে সময় বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি বাকশীমূল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

‎এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলেও তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, পরিষদে গিয়ে শুধু হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে জন্মনিবন্ধনের জন্য যাচ্ছি, কিন্তু প্রতিবারই বলা হয় চেয়ারম্যান নেই। আরেকজন জানান, ওয়ারিশ সনদ নিতে গিয়ে একই কথা শুনতে হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম কেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে? জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না?

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা ব্যবস্থা এলে, আমরা আইনগতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

‎সচেতন মহলের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনসেবায় আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *