টায়ার জ্বালিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ

রাবি প্রতিনিধিঃ


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকাগুলো আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজপথে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক। মূলত হামলাকারীদের বিচার, কোটা সংস্কার এবং বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির বিরোধিতাই ছিল এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু যখন ‘আগুন আর স্লোগান’ শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে কাজলা ও বিনোদপুর গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। আগুনের লেলিহান শিখা আর গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক যোগাযোগ একাধিকবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আন্দোলনের নেপথ্যে প্রধান ঘটনাবলি তাদের দাবি নিয়ে মহাসড়কে! শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উঠে এসেছে! আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।

২০ নভেম্বর, ২০২৫ মুখোশধারী হামলা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হেলমেট ও মুখোশ পরা দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিচার চেয়ে কাজলা গেটে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পোষ্য কোটা ইস্যু! বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও এবং রাজপথে অবস্থান নেন। জুলাই, ২০২৪ ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার! বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো”আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ রাজপথ ছাড়বেন না। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো! শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। সকল ধরণের অযৌক্তিক কোটা বাতিল! মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ! বহিরাগত ও দুর্বৃত্তদের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান।

“আমরা পড়ার টেবিলে ফিরতে চাই, কিন্তু রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। যতক্ষণ না আমাদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না।” — বিক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থী। বর্তমান পরিস্থিতি! বিক্ষোভের ফলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ এবং রেললাইন অবরোধের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করলেও শিক্ষার্থীরা কার্যকর পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।রেললাইন অবরোধ, এবং স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষের সময়ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এসব আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ৩ দফা দাবিসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *