ঢাকা প্রতিনিধিঃ
রাজধানীতে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে বংশাল এলাকায় ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে অন্তত তিনজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বংশাল থানার ডিউটি অফিসার দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডিউটি অফিসার জানান, বংশালের কসাইতলী এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং হঠাৎ ধসে নিচে পড়ে যায়। এতে নিচে থাকা তিনজন পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতদের মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) মর্গে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতদের একজন শিশু। আরেকজন মিডফোর্ড মেডিকেলের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী, যার নাম রাফিউল। তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় নিহতদের দেহ রাস্তার ওপর পড়ে আছে। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। একজনের মুখ ও মাথার সামনের অংশ প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। এই ভূকম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫.৭। আবহাওয়া অধিদফতর একে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কালাচাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা আফরোজা খানম লাকি বলেন, “আমাদের বাসা ৭ তলায়। হঠাৎ ভবন দুলতে থাকে, জোরে শব্দ হয়। বাসার অনেক জিনিস উল্টে পড়ে। আমরা দৌড়ে নিচে নেমে যাই।”
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা সুশান্ত দাস জানান, “হঠাৎ খেয়াল করি ভূমিকম্প হচ্ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ঝাঁকি দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এখনই পড়ে যাবে। সবাই চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে আসে।”
ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, শেরপুর, কুমিল্লা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানেও একই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় বংশাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।