ঢাকা প্রতিনিধিঃ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেসের বিশেষ প্রকাশনা ‘ট্রেনিং কমপেনডিয়াম’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এক অনাড়ম্বর কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর তিন বাহিনীর প্রধানগণ—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলা—এই তিনটি উপাদানই একটি দক্ষ সশস্ত্র বাহিনী গঠনের মূল শক্তি। ‘ট্রেনিং কমপেনডিয়াম’ আমাদের বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষতার ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, মানবিকতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন এই কমপেনডিয়াম সেই সুনামকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস “ট্রেনিং কমপেনডিয়াম” মূলত একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, যেখানে আধুনিক সামরিক কৌশল, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মিশন প্রস্তুতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামরিক নেতৃত্ব বিকাশ, সাইবার সিকিউরিটি সক্ষমতা এবং সমন্বিত বাহিনী পরিচালনার নিয়মাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই কমপেনডিয়ামের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আরও উন্নত, সমন্বিত ও সময়োপযোগী হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ যুদ্ধনীতির পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকাশনার মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন কার্যক্রম, শান্তিরক্ষা অভিযানের সাফল্য, আধুনিকায়ন পরিকল্পনা এবং তরুণ অফিসারদের প্রশিক্ষণ অগ্রগতির বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। পরে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে নতুন “ট্রেনিং কমপেনডিয়াম” এর উন্মোচন দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।