লেখক: শফিউল বারী রাসেল (কবি, গীতিকার সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক)
আমি ছোট মানুষ, বুঝি কম, বলার ভাষাও হয়তো অতটা প্রাঞ্জল নয়। তবুও আজ আর চুপ থাকতে পারলাম না। কারণ সহ্যের সীমা পেরিয়ে গেছে।
সব পেশাতেই ভেদাভেদ, মতপার্থক্য থাকতে পারে—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সাংবাদিকতা, যা কিনা একটি জাতির বিবেক, সত্যের প্রতিচ্ছবি, সেখানে যখন দেখি—সাংবাদিকই সাংবাদিককে গিলে খেতে উঠে পড়ে লাগে—তখন মনে হয়, “কাক কাকের মাংস না খেলেও সাংবাদিক সাংবাদিকের মাংস খায়” কথাটা আজ অপ্রিয় হলেও নির্মম বাস্তবতা।
দেখতে পাই—
👉 কেউ ব্যস্ত রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে।
👉 কেউ সাবেক ক্ষমতাসীনদের দালাল হয়েও ‘২৪-এর জুলাই যোদ্ধা’র মুখোশে প্রভাব খাটাতে।
👉 কেউ সর্বক্ষণ বিজ্ঞাপন সংগ্রহে ব্যস্ত, আবার কেউ না পেয়ে নালিশ আর কান্নাকাটিতে লিপ্ত।
👉 কেউ বিএনপির সাংবাদিক দাবিতে ধরাকে সরা জ্ঞান করে, তো কেউ ‘আওয়ামী দালাল’ বলে নির্বিকার হয়ে পড়েন।
👉 কেউ প্রবীণ সাংবাদিকদের অপমান করেন, আবার কেউ নবীনদের প্রতি দেখান ঈর্ষার দৃষ্টি।
👉 কেউ অপ-সাংবাদিকতার ক্ষেত্র তৈরি করে দেন, কেউ নাম কিনতে গিয়ে চাঁদাবাজি বা তদবিরবাজিতে জড়িয়ে পড়েন।
👉 এমনকি কেউ কেউ সহকর্মীর দুর্বল জায়গায় কষে আঘাত করে ফায়দা লোটেন।
এরা কারা? এরা আমাদেরই মাঝে বাস করা সাংবাদিক নামধারী কলঙ্ক। তারা ভুলে যান—থুতু উপরে ছুঁড়লে তা নিজের মুখেই পড়ে, ইট মারলে পাটকেল ফিরেও আসে।
এই লজ্জা আমরা আর কতদিন বইবো?
এই কলুষ থেকে উত্তরণ কি আদৌ সম্ভব?
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জয়পুরহাট প্রেসক্লাব, যা কিনা একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, এই ঘোলাটে জলকে পরিষ্কার করতে পারে। এর জন্য চাই সাহসী নেতৃত্ব, স্বচ্ছ মানসিকতা এবং সত্যিকারের সাংবাদিকতা চর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা।
প্রেসক্লাবকে নিতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ:
☑️ সিনিয়র সাংবাদিকদের সম্মান ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করতে হবে।
☑️ নবীনদের প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
☑️ হিংসা নয়—ভ্রাতৃত্ব, বিদ্বেষ নয়—সহনশীলতা, প্রতিহিংসা নয়—মানবিকতা ছড়িয়ে দিতে হবে সাংবাদিকদের মধ্যে।
☑️ সাংবাদিকতার নীতিমালা, দায়িত্ববোধ, ও গুণাবলী বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।
☑️ অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে এবং অপ-সাংবাদিক তৈরির কারিগরদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।
আজ সাংবাদিকদের সাথে সাধারণ মানুষের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ অপ-সাংবাদিকতা। গুটিকয়েক লোকের জন্য পুরো সমাজ আজ সন্দেহের চোখে দেখে এই পেশাকে। অনেকে ‘সাংবাদিক’ শব্দটির বিকৃত উচ্চারণে ‘সাংঘাতিক’ বলতেও দ্বিধা করেন না।
এ লজ্জা আর কতদিন বইবো আমরা? সমাধান একটাই—ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, পেশার মর্যাদা রক্ষা করা।
আমি আশাবাদী, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের কর্মকর্তারা এই ক্রান্তিকালে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবেন। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় আমরা সবাই একসাথে এক কণ্ঠে বলবো—
“সত্যই হবে আমাদের অস্ত্র, আদর্শ হবে আমাদের পথ।”