মানিকগঞ্জে শিক্ষকের মারধরে শ্রেণিকক্ষেই প্রস্রাব করে দেয় শিশু, স্কুলে যেতে ভয়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে শ্রেণিকক্ষেই প্রস্রাব করে দেয় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

ঘটনাটি গত বুধবার সকালে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ হাট এলাকায় অবস্থিত ওয়ান্ডার কিডস কেজি স্কুলে ঘটে।

ভুক্তভোগী আলিফ মিয়া (৮) ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে শিবালয় উপজেলার তারাইল গ্রামের প্রবাসী শাহীন মিয়ার ছেলে। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে সে।

শিশুটির মা তনিমা আক্তার বিথী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে আলিফের ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই সহপাঠী আলিফের নাকে আঘাত করে। পরে আলিফ পেন্সিল দিয়ে পাল্টা আঘাত করলে অপর শিক্ষার্থীর মাথায় সামান্য জখম হয়।

তনিমা আক্তার বলেন, এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ প্রথমে আলিফকে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে শাসন করেন। পরে আবার শ্রেণিকক্ষে এসে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে আলিফের পিঠ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন পড়ে। মারধরের সময় আতঙ্কে সে শ্রেণিকক্ষেই প্রস্রাব করে দেয়।


তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শিক্ষকরা সন্তানদের শাসন করুন। কিন্তু এমন শাসন যেন না হয়, যাতে একটি শিশু ভয়ে স্কুলে যেতে না চায়। ঘটনার পর থেকে আমার ছেলে স্কুলে যেতে রাজি হচ্ছে না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটির মা এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শিশুটির চাচাতো নানা খবির উদ্দিন মুন্সীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের একটি দোকানে ডেকে নিয়ে সাটার বন্ধ করে হামলার চেষ্টা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, “আলিফ কিছুটা দুষ্টু প্রকৃতির। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন সে আরেক শিক্ষার্থীকে পেন্সিল দিয়ে আঘাত করে। তাকে শাসন করতে গিয়ে হয়তো একটি আঘাত বেশি জোরে লেগে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে, তবে ইচ্ছাকৃত ছিল না।”

এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *