জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, শূন্যরেখায় বিজিবির পাহারায় ৩ জন

রনি আকন্দ জয়পুরহাট বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে আবারও ভারত থেকে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই তিনজনকে নিয়ে বিজিবি সীমান্তের ২৭৫/৮-এস সাব-পিলারের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।


শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তের পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮-এস সাব-পিলার দিয়ে একজন বৃদ্ধ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোরে সীমান্তের লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে বিএসএফ সদস্যরা তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে নিয়ে শূন্যরেখায় অবস্থান নেন। বর্তমানে সেখানে বিজিবি সদস্যরা কড়া পাহারায় রয়েছেন।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নড়াইল জেলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান (৬৫), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নাসিমা বেগম (৫০) এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার শিউলি খাতুন (৩৫)। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় এভাবেই জানা গেছে।

স্থানীয় ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে বিএসএফ তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা তা প্রতিহত করেন। পরে বিজিবিকে খবর দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, মোট পাঁচজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করা গেলেও বাকি দুজন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে বলা হয়, যেহেতু ওই ব্যক্তিরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তাই তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বিএসএফের দায়িত্ব। বৈঠক শেষে বিএসএফ সদস্যরা তিনজনকে শূন্যরেখায় রেখেই ফিরে যায়।

বর্তমানে তিনজনই শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি সদস্যরা সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *