জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জাল সনদে চাকরি আদালতে মামলা, থানায় তদন্তের নির্দেশ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের কুসুমসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর জাল সনদ ব্যবহার করে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কালাই থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 গত ১৯ জুন  জয়পুরহাট জেলা বিজ্ঞ  জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন মামলার বাদি প্রত্যাশী  শামীম হোসেন৷ 

অভিযুক্ত মেহেদুল ইসলাম (২৫), কুসুমসাড়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন সরকারের ছেলে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জাল সনদে চাকরি আদালতে মামলা, থানায় তদন্তের নির্দেশ
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জাল সনদে চাকরি আদালতে মামলা, থানায় তদন্তের নির্দেশ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুসুমসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য তৎকালীন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দীন  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ওই পদে আবেদনকারীদের অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ দাখিল করতে বলা হয়। বাদীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা বৈধ সনদ দাখিল করলেও অভিযুক্ত মেহেদুল ইসলাম রাঘবপুর চৌমুহনী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে একটি জাল সনদপত্র জমা দেন।

তদন্তে জানা যায়, মেহেদুল ইসলাম কখনো ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আখক্তারুজ্জামান লিখিতভাবে নিশ্চিত করেন যে, তার নামে কোনো সনদ ইস্যু হয়নি এবং সনদে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সীল সম্পূর্ণ জাল।

এছাড়াও মামলায় উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে স্বীকার করেছেন যে, তিনি আট লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে নিয়োগ বোর্ডের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চাকরি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে মাত্রাই ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম   বলেন,“১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে অর্থই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। অযোগ্য ও ভুয়া সনদধারীরা মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে চাকরি নিচ্ছেন। এই দুর্নীতির জবাবদিহি প্রয়োজন।” বৈধ সনদধারী ও আবেদনকারী কে  কৌশলে লিখিত ও ভাইবা থেকে বাদ দেওয়া হয় মূলত টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ বোডগঠিত হয়েছে৷ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি জানাচ্ছি৷ 

কুসুমসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ মামুন আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বিবাদী আমার বাবা হত্যার মামলার আসামি। এখন বিভিন্ন চাপে পড়ে আখতারুজ্জামান রোকন স্যার আমাকে ছাত্র হিসেবে অস্বীকার করেছেন। এখানে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক খেলা চলছে। ভাই, ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।”

বিষয়ে জানতে চাইলে কুসুম সাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবী  বলেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মেহেদুল ইসলাম নিয়োগ লাভ করে। সে রাঘবপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির সনদপত্র আবেদনপত্রে সংযুক্ত করেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ওই সনদপত্রের সত্যতা অস্বীকার করছেন।”প্রশাসনের তদন্তে সত্যটা বেরিয়ে আসুক৷ 

রাঘবপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়  প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নয়। কোনো সনদ ইস্যু করা হয়নি। তারা কম্পিউটার কম্পোজ করে আমার নাম ব্যবহার করে ভুয়া সনদ বানিয়েছে, এই মর্মে আমি লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছি।”

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন,

“আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত গ্রহণ করা হয়েছে৷  যথাযথভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।” 

এই ঘটনায় স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ কীভাবে সম্ভব হলো এবং নিয়োগ বোর্ডের কতজন কর্মকর্তার যোগসাজশ ছিল?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *