জামালপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের দায়ে যুবকের দশ বছর আটক আদেশের রায় ঘোষণা হয়

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের দায়ে  আরিফ হোসেন (২১)ও ফজলুল করিম হিরা (১৯)নামের দুই যুবকের দশ বছর আটক আদেশ  দিয়েছে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২ টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম সাহেব এ রায় ঘোষনা করেন।  আসামি আরিফ হোসেন পিঙ্গলহাটি থানা+জেলা জামালপুর আঃ কাদের এর ছেলে এবং আসামী ফজলুল করিম হিরা  পিঙ্গলহাটি থানা+জেলা জামালপুর হাসু মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট পক্ষে এডভোকেট ফজলুল হক ও বিবাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন এডভােকেট মাহফুজা সুলতানা সাথী। পরে আসামীকে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত এর পিপি আইনজীবী ফজলুল হক জানান,মামলার বাদী মোবারক হোসেন এর মেয়ে মলি খাতুন কে বিবাদী আরিফ হোসেন বিয়ের প্রলোভন দেখাইয়া বিভিন্ন সময়  প্রেম নিবেদন করিয়া আসিতে ছিল। বাদী বিবাদীদ্বয়ের বাড়ী পাশাপাশি। বিবাদী আরিফ হোসেন বখাটে প্রকৃতির এবং লেখাপড়ার পাশপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করতাে। বিবাদী আরিফ হোসেন মলি খাতুনকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে রাজী না হওয়ায় সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিতো ও দেখাইতো। 

এমতাবস্থায় ঘটনার দিন ০৯/০২/২০২০ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৩০ ঘটিকার সময় মলি খাতুন প্রশ্রাব করার জন্য ঘটনাস্থল তাদের বসত ঘরের পিছনে প্রশ্রাবখানায় গেলে পূর্ব হইতে উৎপাতিয়া থাকা বিবাদীদ্বয় মলি খাতুনের  মুখ চাপিয়া ধরিয়া অনুমান ২০০ গজ দুরে জনৈক বাচ্চু মিয়ার বাঁশ ঝাড়ের নিচে নিয়া আরিফ হোসেন মলি খাতুন এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পড়নের পায়জামা খুলিয়া ধর্ষণ করে। ফজলুল করিম হিরা পাশে দাড়াইয়া থাকিয়া আরিফ হোসেন সহযোগীতা করে । আরিফ হোসেন ধর্ষণ করার পর ফজলুল করিম হিরাসহ মলি খাতুনকে বাঁশ ঝাড়ের নিচে রাখিয়া চলিয়া যায়।

যার ফলে বিয়ের প্রলোভনে  একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিলে মলি খাতুন তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ২০২০ সালের  ৯ ফেব্রুয়ারি  ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে আরিফ হোসেন।   পরে মলি খাতুন ব্এর বাবা মোবারক হােসেন বাদী হয়ে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/০৩)এর ৭/৯(১) ধারায় ২০২০ সালের  ১১ ফেব্রুয়ারি জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ রিপোর্ট প্রদান করলে ৮ জন স্বাক্ষী আদালতে জবাব বন্দী প্রদান করে । আসামীর আইনজীবী ও জেরা করেন।  আদালতে আসামী আরিফ হোসেন ও ফজলুল করিম হিরা দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামীকে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত,জামালপুর  দশ বছর ও আটক আদেশ রায় ঘোষনা করেন। ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *