বগুড়ার শেরপুরে জমি জোরপূর্বক বেদখলের অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এক নারীর ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক বেদখলের অভিযোগ উঠেছে নারিশ এগ্রো লিমিটেডের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমিতে ইট-সিমেন্ট দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজও শুরু করা হয়েছে। ঘটনাটি শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইল এলাকায় ঘটেছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির বর্তমান দখলদার হিসেবে দাবি করা সোহেল রানা। তিনি মান্দাইল এলাকার বাসিন্দা ও আলহাজ্ব শামছুল হকের ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নারিশ এগ্রো লিমিটেড মান্দাইল এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্দেশ্যে আশপাশের বিভিন্ন জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে। এর অংশ হিসেবে মান্দাইল মৌজার জেএল নং–৩১, আরএস/এস ফাইনাল ৩৩৯ খতিয়ানের ১৬৭৯ ও ১৮৬০ দাগে মোট ৩২ শতক জমি ক্রয় করা হয়। জমিটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে রোজিনা বেগম রোজি ও মর্জিনা বেগমের নাম রয়েছে।

সোহেল রানার দাবি, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মর্জিনা বেগমের অংশ ক্রয় করলেও রোজিনা বেগমের অংশ কোনো বৈধ দলিল ছাড়াই নামজারি খারিজ করে নেয়। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস কেস নং–১১৭ (১৩) ২০২৫–২০২৬ দায়ের করা হয়।


সোহেল রানার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে নারিশ এগ্রো লিমিটেডের লোকজন জমিতে প্রবেশ করে গাছ কেটে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ফুফু রোজিনা বেগম অসুস্থ থাকায় তিনি প্রতিনিধি হিসেবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।


অন্যদিকে, জমি বেদখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নারিশ এগ্রো লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। শেরপুর শাখার ল্যান্ড অফিসার রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত ও নামজারিভুক্ত জমির মধ্যেই নির্মাণ কাজ করছে। সোহেল রানা একটি চক্রের যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।


এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি দেওয়ানি মামলা সংক্রান্ত হওয়ায় দায়েরকৃত মিস কেসটি খারিজ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *