বিনোদন রিপোর্টঃ
বিদেশে অবস্থানরত এক প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে গুরুতর পরকীয়া, প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখেও আরেক নারীর সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীর মানসিক ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিদেশে থাকার অজুহাত, দেশে না ফেরার গল্প
অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। দেশে না ফেরার কারণ হিসেবে কখনো টিকিট না পাওয়া, কখনো কাজের চাপ—এমন নানা অজুহাত দেখাতেন। কিন্তু একই সময়ে তার পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন চ্যাট ও সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রমে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্ত্রীর সামনে অপমান, প্রকাশ্য ‘জেলাসি গেম’
ভুক্তভোগীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ—অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কিত ওই নারী ইচ্ছাকৃতভাবে বৈবাহিক সম্পর্ককে অশ্রদ্ধা করে নানা আচরণ করতেন। স্বামীর সঙ্গে ভ্রমণে গিয়ে ছবি তুলে স্ত্রীর কাছে পাঠানো,
বিবাহবার্ষিকীর দিন স্বামীকে স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে রাখা, স্ত্রীর উদ্দেশে কটূক্তিমূলক ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দেওয়া—
এসব আচরণ মানসিক চাপে পরিণত হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীকে ‘অপ্রয়োজনীয়’, ‘অযোগ্য’ বা শারীরিক গড়ন নিয়ে কটাক্ষ করে নিয়মিত হেয় করা হতো। এতে তিনি চরম আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। নিজেকে বদলাতে জিমে যাওয়া, অতিরিক্ত ডায়েটিং—সবকিছুই করেও মানসিক শান্তি পাননি।
ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক চাপের অভিযোগ
সূত্র জানায়, ওই সম্পর্কিত নারী নানাভাবে আবেগিক চাপ সৃষ্টি করতেন। স্বামীর ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা, এমনকি হুমকি-ধমকির মতো আচরণও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দাম্পত্য সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে “মানসিক নির্যাতনের চরম উদাহরণ” হিসেবে অভিহিত করছেন। কেউ কেউ প্রবাস জীবনের আড়ালে দ্বৈত সম্পর্কের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন উঠছে দায়বদ্ধতা নিয়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরকীয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন নয়; এটি মানসিক স্বাস্থ্য, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ একজন মানুষকে হতাশা, আত্মসম্মানহীনতা এমনকি চরম সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে—এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।