রংপুরে ইমাম সেজে প্রধানমন্ত্রীর ভাতা নিলেন জামায়াত নেতা

বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতাঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে মসজিদের পেশ ইমাম পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নয়ন মিয়ার বিরুদ্ধে। উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ পলিখিয়ার নতুন জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মিজানুর রহমান। সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের ভাতা প্রকল্পে ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়।

এই কার্যক্রমে মসজিদের মোয়াজ্জেম আয়ুব ও খাদেম আশরাফুলের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও পেশ ইমামের স্থানে মাওলানা মিজানুর রহমানের নামের পরিবর্তে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নয়ন মিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরে প্রকৃত ইমামের নাম না থাকায় মসজিদ কমিটি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সামনে আসে। তারা জানতে পারেন, নয়ন মিয়া নিজেকে পেশ ইমাম দেখিয়ে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।

চতরা আহমদিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “সরকার থেকে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা তালিকা দিয়েছিলাম। পরে দেখি আমাদের প্রকৃত ইমামের নাম বাদ পড়ে গেছে। অদৃশ্য কারণে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নয়নের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে আমরা হতবাক হয়েছি। এই ছেলের পেছনে আমরা নামাজ পড়ি না, তিনি আমাদের পেশ ইমামও নন। অথচ তার নাম এখানে আসবে কেন? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান বলেন, “আমি মসজিদ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ইমামতি করছি। কিন্তু হঠাৎ করেই নয়ন তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা তুলে নিয়েছেন। এতে আমি আমার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নয়ন মিয়া বলেন, “এখানে পেশ ইমাম নেই। কাকে ভাতা দেওয়া হবে তা ভেবে সবাই মিলে আমার নাম দিয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি সভাপতি নন। যিনি আছেন তিনি পেশ ইমাম নন, তিনি খতিব।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করা হবে।”

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “অভিযোগটি আমার যোগদানের আগের। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *