বসন্ত উৎসবের রঙে – জুনিয়র ও সিনিয়র শিল্পীদের তুলির টানে দেওয়ালে চিত্র

কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) প্রতিনিধিঃ

কলকাতা সল্টলেকের মহিষবাথান এর সংযোগস্থলে, সৃজন আর্ট একাডেমি আয়োজিত এবং সুব্রত ঘোষের উদ্যোগে ১৫ই মার্চ ঠিক সকাল ন’টা থেকে ,,বসন্ত উৎসবকে সামনে রেখে বসন্তের রঙিন রঙে এবং শিল্পীদের তুলির টানে সুন্দর চিত্রের মাধ্যমে সেজে উঠলো এলাকার দেওয়াল গুলি। আবির খেলার মধ্য দিয়েই এই দেওয়াল চিত্র কর্মশালার শুভ সূচনা হয়।

এই দেওয়াল চিত্র কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, স্বনামধন্য শিল্পীদের মধ্যে, তারা বহু সম্মানে ভূষিত তাহাদের মধ্যে ছিলেন, বিশেষ অতিথি হিসাবে চিত্রশিল্পী মলয় দাস, শ্যামা দাস, বিখ্যাত মডেল শর্মিষ্ঠা রায়

যাহারা এই দেওয়ালের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তাহাদের মধ্যে ছিলেন উদ্যোক্তা সুব্রত ঘোষ, অতনু হাজরা, সৃষ্টিলেখা ঘোষ, সুদীপ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ নাথ, সৌভিক দাস, শান্তনু বৈদ্য, স্বপ্না গায়েন, শুভ্রদীপ দে, আহুতি বিবি,
এছাড়াও জুনিয়রদের মধ্যে ছিলেন, সাগ্নিক মাইতি, নৈরীতি আনন্দ, উপাসনা দাস, সৃদীপ ঘোষ, অয়ন মন্ডল, অভ্র আনন্দ, তনুশ্রী ঘোষ। দীপ্তি ঘোষ সহ অন্যান্য চিত্রশিল্পীরা। সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছেন , পাশে থাকার চেষ্টা করেন উৎসাহ যোগান, ঘোষ পরিবারের বাবা প্রিয়তোষ ঘোষ ও মা জবা ঘোষ -‌

এই দেওয়াল চিত্তের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীল ও শিল্প অনুরাগী, শিল্প প্রতিভার অনুসন্ধান এবং রুচিশীল ভাবনাকে সমাজের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।


যাহা নতুন প্রতিভাকে অনুপ্রেরণাও জোগাবে, এলাকায় সৌন্দর্যায়নে বৃদ্ধি পাবে, সমাজের ও এলাকার মানুষেরা এই ভাবনাকে যদি প্রতিটি এলাকায় এলাকায় ছড়িয়ে দেন, তাহলে এলাকাগুলি সুন্দর রূপ ধারণ করবে দেওয়াল গুলিতে ফুটে উঠবে রামধনুর রঙিন রঙে, ফুটে উঠবে শিল্পীদের মনের ভাবনা, যে সকল ক্লাবের দেওয়াল, স্কুলের দেওয়াল কলেজের দেওয়াল এমনকি রাস্তার ধারে যে সকল বাড়িগুলির দেওয়াল থাকে, সেই গুলিকেও যদি এইভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ বান্ধব তৈরি হবে। শিল্পীদেরও আগ্রহ বাড়বে এইভাবে সুন্দর সুন্দর ছবিতে ভরিয়ে তুলতে।

সৃজন একাডেমির উদ্যোক্তা সুব্রত ঘোষ, প্রথম থেকেই এরকম একটি ভাবনা মাথায় এনেছিলেন।, যেখানে সকল শিল্পীদের তুলির টানে এলাকার দেওয়াল গুলি সুন্দরময় হয়ে ওঠে, সাত রঙে রামধনুতে ফুটে উঠে, তাই একটি কর্মশালার মধ্য দিয়ে সকল জুনিয়র ও সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে বসন্ত উৎসবের মধ্য দিয়ে ওয়ালগুলিকে রঙিন রঙে ও ছবিতে ফুটিয়ে তুললেন, এর আগেও তিনি এরকম ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন অন্যান্য দেওয়াল গুলি।

শুধু তিনি দেওয়াল কর্মশালার মধ্য দিয়েই বসন্ত উৎসব করেননি, এর সাথে সাথে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যাহারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের হাতে একটি করে সার্টিফিকেট তুলে দেন, তিনি বলেন আমি গর্বিত, এবং সকলের কাছে কৃতজ্ঞ, আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সকল শিল্পীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এগিয়ে এসেছেন, শুধু তাই নয় আরো বেশি গর্বিত অনুভব করছি, শিল্পীদের সাথে যেভাবে ছোট ছোট ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরা রং তুলির টানে মেতে উঠেছিলেন। এটা আমার কাছে নতুন পাওনা।

আর একটা কথাই বলবো আপনারা ও এলাকাগুলিকে এইভাবে সুন্দরময় করে তুলুন, পরিবেশকে সুন্দর রাখুন, ছোট ছোট এইরকম শিল্পীদের উৎসাহিত করুন, তাহলে হয়তো শিল্পীরাও অনেকটা এগিয়ে যেতে পারবে, কর্মশালার মধ্য দিয়ে সুন্দর সুন্দর চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারবে। শিল্পীরা শিল্প সত্তার মধ্য দিয়ে বাঁচার রাস্তা খুঁজে পাবে।, শুধু চিত্র প্রদর্শনীকে গুরুত্ব না দিয়ে এইভাবে এলাকার ওয়াল গুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য গুরুত্ব দিন।

আজ আমি সবার সহযোগিতায় এলাকায় কিছুটা সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। সুব্রত ঘোষের এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী ও শিল্পীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *