মোঃ শাহজাহান বাশার, ঢাকা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’কে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
আমরা নির্বাচন ব্যতিরেকে অন্য কোনও পথকে সমর্থন করি না।”এদিনের সংবাদ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো। বিএনপি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যাশা, অধিকার ও স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, “গোটা জাতি আজ একটাই বিশ্বাস করে—সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে মুক্তি সম্ভব।
জাতি চায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ। এই ঘোষণাপত্র সেই উত্তরণের দ্বার খুলে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই পথ দীর্ঘ, কিন্তু সঠিক। যারা হতাশ, তারা সারাজীবন হতাশই থাকবে। এখন আশার সময়, ইতিবাচক চিন্তার সময়।”তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো একটি সম্মিলিত ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই ঘোষণাপত্রকে বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সবাই এটা বুঝবে যে, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারে।
”প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “নিঃসন্দেহে তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। এখন পর্যন্ত তিনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে আমাদের বিশ্বাস, তিনি এমন কিছু করবেন না যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।” বিএনপি মনে করে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, “মানুষের সেই সংগ্রাম চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে।
ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাসিনা সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসন আর টিকতে পারেনি। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেই নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়। মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার ঘটে।”তিনি বলেন, সেই গণজাগরণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পুর্নগঠনের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার একটি ঐক্যমত তৈরি হয়েছে।বিএনপি মনে করে, ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে সমস্ত অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো একটি দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাবে। এটি হবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা, যেখানে থাকবে সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার।
বিএনপি মনে করে, এই পথই পারবে দেশকে স্থায়িত্ব, সম্মান ও বিশ্বসম্প্রদায়ে গ্রহণযোগ্যতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। বিএনপির পক্ষ থেকে এও বলা হয়, সকল রাজনৈতিক শক্তির উচিত এখনই সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ পরিহার করে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা।‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর পর দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বিএনপি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক সাড়া দিলেও এখন দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও অংশগ্রহণের ওপর।