পেকুয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক নারী দুই স্বামীকে নিয়ে সংসার করে যাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। দুইজন পুরুষের স্ত্রী একজন মহিলা এমন খবরে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এর ছনখোলা নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন বারবাকিয়া ইউনিয়নের পূর্ব পাহাড়িয়াখালী ছনখোলা এলাকার জােসনা বেগম (২২) নামের এক নারী সংসার করছে দুই স্বামীকে নিয়ে। নুরুল হোসাইন ও নুরুজ্জামান এ দুই পুরুষের স্ত্রী একাই ওই জােসনা বেগম।
স্থানীয়রা জানান, ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বারবাকিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা মিয়ারজুম এলাকার আবদুল করিমের মেয়ে জোসনা বেগম ও একই এলাকার প্রতিবেশী আবু তাহেরের পুত্র নুরুল হোসাইনের বিয়ে হয়। ৪ লক্ষ টাকা দেনমোহরসহ রেজিস্ট্রি কাবিননামামূলে বিয়ে হয় দুইজনের। জোসনা ও নুরুল হোসাইন দম্পতির আরিফুল ইসলাম নামের ৪ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। জোসনার স্বামী নুরুল হোসাইন পেশায় দিনমজুর। নলকূপ বসানোর জন্য শ্রমজীবী হিসেবে কাজ করেন। সংসার চালাতে নুরুল হোসাইন টিউবওয়েল স্থাপন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
এদিকে বিগত আড়াই মাস আগে থেকে নিরুদ্দেশ হন গৃহবধূ জোসনা বেগম। স্বামীর অজান্তেই সংসার ছেড়ে পালিয়ে যান ওই নারী। স্ত্রী পালিয়ে গেছে এ খবরে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা নুরুল হোসাইনের। স্ত্রী জোসনার খোঁজ পেতে ছুটছিলেন বিভিন্ন স্থানে। এসময় জানতে পারেন তার স্ত্রী জোসনা বেগম বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালীর নুরুজ্জামান ডাকাতকে নিয়ে ঘর সংসার করছেন। পাহাড়ের গহীন অরণ্য বনভূমি জায়গার একটি ডেরায় নুরুজ্জামান ও জোসনা বেগম স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে অবৈধ ঘর সংসার করছিলেন। খবর পেয়ে বনবিভাগসহ স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়াে হন। এসময় পরিস্থিতি টের পেয়ে নুরুজ্জামান তার অনুগত অপরাধীরা জোসনা বেগমকে নিয়ে দ্রত সটকে পড়ে। বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে নির্মিত ডেরাটি উচ্ছেদ করে।
নুরুল হোসাইনের মা রেহানা বেগম বলেন জােসনা খুবই খারাপ প্রকৃতির মেয়ে। চরিত্র ভালো না তার।আমার ছেলের সংসারে থাকতেই আরেকজন পুরুষের সাথে স্বামী পরিচয়ে মেলামেশা করছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সে নাকি নুরুজ্জামান ডাকাতকে স্ট্যাম্পমুলে বিয়ে করছে। আমার ছেলের কাবিনের বৌ।
প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদ না করে জোসনা কিভাবে আরেকজনকে নিয়ে সংসার করে। দেশে কি আইন নেই। রেহানা বেগম আরো বলেন এখন আমরা ভয়ে আছি কারণ আমরা থাকি পাহাড়ে। জোসনা বেগম হুমকি দিচ্ছে এ নিয়ে থানা কিংবা আদালতে গেলে গৃহপালিত গবাদী পশু নিয়ে যাবে এবং আমাদেরকে মেরে এলাকা ছাড়া করবে তার নতুন স্বামীকে ডাকাত নুরুজ্জামানকে দিয়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে, অভিযুক্ত জোসনা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ না দেয়ায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
আবাদীঘোনা ও ছনখোলা সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার রহিমদাদ বলেন, এ মেয়েটি জগণ্য কাজ করছে। ছেলের মা-বাবা এসে বিষয়টি আমাকে বলেছে। এখানকার লোকজন গিয়েছিল পাহাড়ের ভেতর থেকে মেয়েটিকে নিয়ে আসতে তখন নুরুজ্জামান পালিয়ে গেছিলো। নুরুজ্জামান তাে বিবাহিত। তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে আছে। ছেলে পক্ষকে আইনী সহায়তা নিতে পরামর্শ দিয়েছি।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।