সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে মারপিট করে বাড়িঘর ভাঙচুর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় মোছাঃ বেবী বেগম বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের দক্ষিণ বেকাটারি গ্ৰামের তৈয়ব আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ বাদশা মিয়া(৫৫), মোঃ মান্না মিয়া(৪৫), মোঃ মাহাবুর রহমান (৪৮), বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ বিপ্লব মিয়া (৩০), তালেব মহুরীর ছেলে মোঃ রওশন আলম (২০), মোঃ মাহাবুব রহমানের ছেলে মোঃ আবু রায়হান(২২), বাদশা মিয়ার স্ত্রী উম্মে কুলহুম (৫০), মৃত কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মোঃ আলা মিয়া (৪০),আসামীগণ বাদীর নিকট আত্মীয় এবং পাশাপাশি বাড়ি। পূর্বে থেকে আসামীগনের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি করে মারপিট করার হুমকি ধামকি করে আসতে ছিল।
এমতাবস্থায় গত ২৮/০৭/২০২৫ইং তারিখ সকালে উল্লেখিত আসামীগণ বর্গা নেওয়া জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বাদী পক্ষের সাথে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করে উল্লেখিত আসামীগণ ছাড়াও আরো ৪/৫জন অজ্ঞাতনামা আসামীসহ হাতে লাঠি, সোটা ও ধারালো ছোরা নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য বেআইনী দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিতভাবে বাদীর বাড়ির ভিতরে অনধিকারভাবে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি করতে থাকে।
ঐ সময় বাদী পক্ষের বাড়িতে থাকা তার ছেলে মোঃ জালাল মিয়া, বেয়াইন মোছাঃ মেনেকা বেগম (৫৫), পুত্রবধূ মোছাঃ নাছুমা আক্তার (২৩), ও ভাতিজা মোঃ মমিনুল ইসলাম (১৪) আসামীদেরকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করে চলে যেতে বললে আসামীগণ ক্ষিপ্ত আরো হয়ে ওঠে এবং আসামী বাদশা মিয়া হুকুমে অন্যান্য আসামীগণ আমার ছেলে, বেয়াইন, পুত্রবধূ ও ভাতিজাকে এলোপাতারী ভাবে মারপিট করে তাদের সকলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছেলা ফুলা কালশিরা রক্ত জমাট বাঁধা বেদনাযুক্ত জখম করে।
আসামীগণ আমার ছেলে, বেয়াইন, পুত্রবধূ ও ভাতিজাকে মারপিট করাকালে আসামী বিপ্লব মিয়া ঘুষি মেরে বাদীর পুত্রবধুর নাকে ফাটা রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময় আসামী মান্না মিয়া বাদী পক্ষের মেরামতকৃত পূর্ব দুয়ারী টিনের ঘরে প্রবেশ করে বাক্সে থাকা ৩,১৫,০০০/-(তিন লক্ষ পনেরো হাজার টাকা বের করে নেয়। সেসময় বাদীর বেয়াইন ও পুত্রবধূ টাকা রক্ষা করার চেষ্টা করলে আসামী বাদশা মিয়া বাদীর বেয়াইনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে বেয়াইন মেনেকা বেগম এর মাখায় উপরিভাগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।
পুত্রবধূ নাছুমা আক্তার তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে আসামী বিপ্লব মিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার পুত্রবধূ নাছুমা বেগম এর পরনের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্রীলতাহানি ঘটায় এবং আসামী কুলছুম বেগম আমার পুত্রবধুর গলায় থাকা ০৮ আনা এজনের স্বর্ণের চেইন যাহার মূল্য অনুমান ৮০,০০০/- টাকা বলপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আমার বেয়াইন মেনেজা বেগম জখমপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আসামী বিপ্লব আমার বেয়াইনকে হত্যার উদ্দেশ্যে সে তার দুই হাত দিয়া স্বজোরে আমার বেয়াইনের গলা চিপিয়ে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। ঐ সময় আমার পুত্র, পুত্রবধূ ও ভাতিজা আসামী বিপ্লব মিয়াকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে আমার বেয়াইনকে রক্ষা করে। নচেৎ আসামী বিপ্লব মিয়া আমায় বেয়াইনকে হত্যা করে ফেলতো।
এক পর্যয়ে আসামী রওশন ও মান্না মিয়া আগুন নিয়ে তাদের মেরামতকৃত ঘরের বিভিন্ন জিনিসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আসামী আবু রায়হান, মাহাবুর রহমান ও উম্মে স্কুলছুম আমার সিজার হওয়া পুত্রবধূ নাছুমা আক্তারকে মাটিতে ফেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার পেটে ও বুকে এলোপাথারীভাবে লাতিগুড়ি মারিতে থাকে।ঐ সময় আমার বেয়াইন, পুত্রবধূ ও ভাতিজার আর্তচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীগণ প্রাণ নাশ করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম আজাদ জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।